পরিকল্পনা ০৬ঃহজ্ব তাকাফুল পরিকল্পনা (মুনাফাসহ)

ভূমিকা

পবিত্র হজ পালন প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য একটি ধর্মীয় আবশ্যকতা। হজ তাকাফুল পরিকল্পনা অংশগ্রহণকারীদের হজের প্রয়োজনীয় অর্থ সঞ্চয় করতে সাহায্য করার পাশাপাশি মেয়াদে থাকাকালীন পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটি একটি শরীয়াহ সম্মত যৌথ কল্যাণ ব্যবস্থা যেখানে সঞ্চয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা একই সাথে বিদ্যমান।

পরিকল্পনার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
  • মেয়াদ: সর্বনিম্ন ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে এই তাকাফুল গ্রহণ করা যায়।
  • ফেস ভ্যালুর সীমা: সর্বনিম্ন ১০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০,০০০ (দশ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত।
  • বয়স সীমা: অংশগ্রহণের ন্যূনতম বয়স ২০ বছর এবং সর্বোচ্চ ৫৫ বছর।
  • কন্ট্রিবিউশন পদ্ধতি: বার্ষিক, ষান্মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধ করা যায়।
  • সমর্পণ মূল্য ঋণ: ২ বছরের পূর্ণ কন্ট্রিবিউশন জমা হওয়ার পর পলিসি সারেন্ডার করা যায় এবং সমর্পণ মূল্যের সর্বোচ্চ ৯০% পর্যন্ত শরীয়াহ সম্মত বিনিয়োগ ঋণ নেওয়া যায়।
  • ইজাফি সুবিধা (Ezafi): দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু এবং পঙ্গুত্ব ঝুঁকি (DIAB/PDAB) অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা যায়।
  • কর সুবিধা: প্রচলিত আইন অনুযায়ী আয়কর রেয়াত পাওয়া যায়।
সুবিধাসমূহ (Benefits):
১. সারভাইভাল বেনিফিট (মেয়াদপূর্তি সুবিধা):

মেয়াদ শেষে অংশগ্রহণকারী পূর্ণ ফেস ভ্যালু (FV) এবং সাথে অর্জিত সকল মুনাফা/বোনাস একসাথে পাবেন। এই অর্থ তিনি পবিত্র হজ পালন অথবা অন্য যেকোনো মহৎ উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে পারেন।

২. মৃত্যুজনিত সুবিধা (Protection):

মেয়াদের মধ্যে অংশগ্রহণকারীর মৃত্যু হলে:

  • তার মনোনীত ব্যক্তি পূর্ণ ফেস ভ্যালু (১০০%) এবং মৃত্যুর তারিখ পর্যন্ত অর্জিত মুনাফা/বোনাস পাবেন।
  • উদ্দেশ্য: এটি নিশ্চিত করে যে, অংশগ্রহণকারীর অবর্তমানেও তার পরিবার যেন একটি বড় অংকের আর্থিক সহায়তা পায়, যা দিয়ে তারা মৃত ব্যক্তির হজ-এ-বদল বা অন্য আর্থিক দায় মেটাতে পারে।